English
Dr. Sujoy Maitra | Best Gastro Doctor in Salt Lake, Kolkata | Manipal Hospitals

Dr. Sujoy Maitra

Senior Consultant - Gastroenterologist

Book Appointment

Subscribe to our blogs

Dr. Sujoy Maitra | Best Gastro Doctor in Salt Lake, Kolkata | Manipal Hospitals
Reviewed by

Dr. Sujoy Maitra

Senior Consultant - Gastroenterologist

Manipal Hospitals, Salt Lake

বুকে গ্যাসের সমস্যা: লক্ষণ, কারণ এবং কখন চিকিৎসা নেওয়া উচিত

Reviewed by:

Dr. Sujoy Maitra

Posted On: Jun 24, 2026
blogs read 6 Min Read
বুকে গ্যাসের সমস্যা

সামগ্রিক সুস্থতার জন্য পরিপাকতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও পেট ফাঁপা হল পরিপাকতন্ত্রের কিছু সাধারণ সমস্যা, যার চিকিৎসা প্রায়শই ঘরোয়া উপায় বা ওষুধের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও গ্যাস বুক পর্যন্ত উঠে আসতে পারে, যার ফলে বুক জ্বালা বা বুকে চাপের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর তীব্রতা এবং পুনরাবৃত্তি দৈনন্দিন কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, ও তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো গুরুতর রোগ লুকিয়ে আছে কি না সেটা দেখে নেওয়াটা প্রয়োজন। 

এই নিবন্ধে বুকে গ্যাসের সমস্যা, বুকে গ্যাসের সমস্যার উপসর্গ, এর কারণসমূহ, কিছু কার্যকর বুকে গ্যাসের ঘরোয়া প্রতিকার ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত - এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে।

 

বুকে গ্যাসের সমস্যা কেন দেখা যায়?

বুকে গ্যাসের সমস্যা হয় অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর জন্য। অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর সমস্যায় অনেক সময় পাকস্থলী আর খাদ্যনালীর মাঝখানে থাকা একটা ভালভ দুর্বল অথবা আলগা হয়ে যায়।  মেডিকেল পরিভাষায় এটাকে  গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল জংশন্ (GEJ) বলা হয়। এই ভালভ ঠিক মতো কাজ না করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড, গ্যাস এবং পিত্ত খাদ্যনালীতে উঠে আসে, যার ফলে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে ভালভ-টি খুব বেশি আলগা হয়ে গেলে পাকস্থলীর একটি অংশও উঠে আস্তে পারে।

বুকে গ্যাসের সমস্যা

বুকে গ্যাসের লক্ষণ

বুকে গ্যাসের লক্ষণগুলি প্রায়শই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলির সাথে বিভ্রান্ত হতে পারে, যা অনেক সময় উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

  • বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: এটি বুকজুড়ে বা বুকের একপাশে হতে পারে। সাধারণত  বুকের হাড়ের নিচে তীক্ষ্ণ একটি ব্যাথার অনুভূতিও হতে পারে। 

  • পেট ফোলা: খাবার খাওয়ার পর বা সারাদিন পেট ফুলে থাকা একটি সাধারণ লক্ষণ। 

  • বুক জ্বালাপোড়া: সাধারণত বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়, যা খাদ্যনালী থেকে গলার দিকেও উঠতে পারে।

  • ঢেকুর তোলা: বারবার ঢেকুর ওঠা গ্যাসের একটি স্পষ্ট লক্ষণ, যা হজমতন্ত্র থেকে অতিরিক্ত গ্যাস বের করার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

  • পেট ফাঁপা: পেটে গ্যাস জমা হওয়ার কারণে পেট ফুলে যাওয়া এবং অস্বস্তি বোধ হওয়া।

  • বুকে চাপ বা টাইট অনুভব করা: মনে হতে পারে বুকের উপর কিছু চাপানো আছে।

  • শ্বাস নিতে অসুবিধা: কিছু ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত গ্যাস ডায়াফ্রামের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে।

  • ক্ষুধামন্দা: গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।

এই লক্ষণগুলি অনেক সময় গুরুতর  সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, তাই একে শুধু গ্যাসের  সমস্যা না ভেবে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ  নেওয়া উচিত।

বুকে গ্যাসের কারণ

বুকে গ্যাসের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে কিছু কারণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি অন্তর্নিহিত কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এখানে কিছু প্রধান কারণ আলোচনা করা হল:

  • খাদ্যাভ্যাস:

    • গ্যাস সৃষ্টিকারী খাবার: কিছু খাবার প্রাকৃতিকভাবে বেশি গ্যাস তৈরি করে, যেমন - শাক, বাঁধাকপি, শশা, কাঁচা পিয়াজ , ছোলা, মটর, দুধ  এবং ক্ষীর।

    • ফাস্ট ফুড ও তৈলাক্ত খাবার: এই ধরনের খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং গ্যাস তৈরি করতে পারে।

    • দ্রুত খাওয়া: দ্রুত খাওয়া, বা হাঁপানি ও মুখ দিয়ে স্বাস নেওয়ার অভ্যেসের ফলে পেটের মধ্যে বায়ু প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে অত্যাধিক গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে।

    • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: ফ্যাট হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা গ্যাস বাড়ায়।

  • জীবনযাত্রার অভ্যাস:

    • ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলি হজমতন্ত্রের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    • চাপ ও উদ্বেগ: মানসিক চাপ সরাসরি হজম প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে।

    • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: পর্যাপ্ত নড়াচড়া না হলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

বেশিরভাগ সময় বুকে গ্যাসের সমস্যা গুরুতর কিছু নয় এবং ঘরোয়া উপায়ে এর সমাধান সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, কিন্তু সেটি ঘরে বসে রুগীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, তাই কতটা গুরুতর জানতে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন:

  • বুকে তীব্র ব্যথা, যা বাহু, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে।

  • শ্বাসকষ্ট, ঘাম এবং মাথা ঘোরা সহ বুকে ব্যথা।

  • বুকে ব্যথা যা পরিশ্রমের সময় বেড়ে যায় এবং বিশ্রামে কমে আসে (এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে)।

  • তীব্র ও অবিরাম পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব।

  • অকারণ ওজন হ্রাস।

  • খাবার গিলতে অসুবিধা।

  • ঘন ঘন বুক জ্বালাপোড়া।

যদি আপনার বয়স ৫০ বছরের বেশি হয় এবং প্রথমবারের মতো গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা অনুভব করেন।

বুকে গ্যাসের ঘরোয়া প্রতিকার

সাধারণ বুকে গ্যাসের সমস্যার জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার বেশ কার্যকরী হতে পারে, তবে এই সমস্যার গুরুত্ব প্রথমেই ডাক্তার দেখিয়ে নির্ণয় করা উচিত।

  • বারে বারে অল্প করে খাওয়া ।

  • খাওয়া শেষ করার দেড় ঘন্টার মধ্যে জল পান না করা। 

  • খাওয়া শেষ করার দুই ঘন্টা পর শুতে যান।

করণীয় ও বর্জনীয়

বুকে গ্যাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।

করণীয়

  • ধীরে ধীরে খাবার খান: তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাবার খান, যাতে অতিরিক্ত বাতাস পেটে প্রবেশ না করে।

  • পরিমান মেপে খাওয়া: একবারে বেশি না খেয়ে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাবার খান।

  • নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন এবং ওজন বেশি থাকলে সেটা কমানোর চেষ্টা করুন। এটি হজম উন্নত করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমায়।

  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজ করে মানসিক চাপ কমান। চাপ হজমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

  • উঁচু বালিশে ঘুমান: রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় মাথার দিক টা উঁচু রাখুন, এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে সাহায্য করে।

  • ফাইবারযুক্ত খাবার: ফল, সবজি এবং গোটা শস্য জাতীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। তবে হঠাৎ করে বেশি ফাইবার যোগ করবেন না, ধীরে ধীরে বাড়ান।

বর্জনীয়

  • গ্যাস সৃষ্টিকারী খাবার এড়িয়ে চলুন: শাক, বাঁধাকপি, শশা, কাঁচা পিয়াজ , ছোলা, মটর, দুধ, ক্ষীর, এবং অতিরিক্ত  ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত এড়িয়ে চলুন ।

  • অতিরিক্ত মসলাদার খাবার: অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং গ্যাস বাড়ায়।

  • ধূমপান ও মদ্যপান: এই দুটি অভ্যাসই হজমতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং গ্যাসের সমস্যা বাড়ায়।

  • খাবারের পরপরই ঘুমানো: খাওয়ার অন্তত ২-৩ ঘন্টা পর ঘুমাতে যান।

  • টাইট পোশাক পরা: পেটের উপর চাপ সৃষ্টি করে এমন টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন।

  • চুইংগাম চিবানো: চুইংগাম চিবানোর সময় প্রচুর বাতাস গিলে ফেলা হয়, যা গ্যাস বাড়ায়।

  • ব্যথানাশক ঔষধের অপব্যবহার: কিছু ব্যথানাশক ঔষধ নিয়মিত সেবন গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।

সারসংক্ষেপ

যদি আপনি বুকে গ্যাসের সমস্যার সম্মুখীন হন এবং এই লক্ষণগুলি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হন, তবে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মানিপাল হসপিটালস সল্টলেক-এর অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞ আপনার সঠিক রোগ নির্ণয় ও কার্যকরী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত। আমাদের অত্যাধুনিক সুবিধা এবং সহানুভূতিশীল পরিচর্যা আপনাকে দ্রুত সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সবরকম চেষ্টা করবে। আজই মানিপাল হসপিটালস সল্টলেক-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন

FAQ's

বুকে গ্যাসের ব্যথা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে হলে অল্প পরিমাণে অ্যান্টাসিড খেলেই চলে যায়, কিন্তু এই অবস্থা চলতে থাকলে অবিলম্বে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।

এই দুটিকে আলাদা করা কঠিন হতে পারে, তাই সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে সাধারণ ভাবে  দুটোর মধ্যে  পার্থক্ষ  হল যে , হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে শুরু হয়ে বাম হাত, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, এবং এর সাথে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা থাকতে পারে। অন্যদিকে, গ্যাসের ব্যথা সাধারণত পেটে ফোলাভাব, ঢেকুর এবং পেটে গুড়গুড় শব্দের সাথে যুক্ত থাকে।

শাক, বাঁধাকপি, শশা, কাঁচা পিয়াজ , ছোলা, মটর, দুধ, ক্ষীর, এবং অতিরিক্ত  ফ্যাট ও উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং গ্যাস বাড়ায়।

হ্যাঁ, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হজম প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এটি অন্ত্রের গতিবিধি পরিবর্তন করতে পারে এবং গ্যাস ও ফোলাভাব বাড়াতে পারে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে অনেকরকম শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

যদি বুকে গ্যাসের লক্ষণগুলি গুরুতর হয়, ঘন ঘন ঘটে, বা ঘরোয়া প্রতিকার কাজ না করে, অথবা যদি ওজন হ্রাস, বমি, মলের পরিবর্তন বা খাবার গিলতে অসুবিধার মতো অতিরিক্ত লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

Share this article on:

Subscribe to our blogs

Thank You Image

Thank you for subscribing to our blogs.
You will be notified when we upload a new blog

You’re on Our Indian Website

Visit the Global site for International patient services

Need Assistance?
'Click' to chat with us
Chat with us