English
Department of Cardiology
Book Appointment

Subscribe to our blogs

Department of Cardiology

হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কিত ১০টি বিপজ্জনক ভ্রান্ত ধারণা যা প্রত্যেক ভারতীয় বিশ্বাস করে — এবং যে তথ্যগুলো আপনার জীবন বাঁচাতে পারে

Posted On: May 27, 2026
blogs read 6 Min Read
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

ভারতে হৃদরোগ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং হার্ট অ্যাটাক জীবনহানির অন্যতম প্রধান কারণ। দুর্ভাগ্যবশত, হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণা ও তথ্য না জানার ফলে অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না। এই ব্লগটির উদ্দেশ্য হল হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সঠিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ১০টি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করে, নির্ভুল তথ্য দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যা আপনার ও আপনার প্রিয়জনদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।

 

ধারণা ১

বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ।

বাস্তবতা- বুকে ব্যথা অবশ্যই হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ, তবে এটি একমাত্র লক্ষণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, বুকে তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আরও আছে, যেমন- বাহু, পিঠ, ঘাড়, বা চোয়ালে ব্যথা, পেটে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমি এবং হঠাৎ মাথা ঘোরা

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

ধারণা ২

হার্ট অ্যাটাক শুধুমাত্র বয়স্কদের হয়।

বাস্তবতা- যদিও বয়স একটি ঝুঁকির কারণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং স্থূলতার কারণে ভারতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক এখন আর কোনও নতুন কথা নয়। বর্তমানে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২৫-৪০ বছর বয়সী ভারতীয়দের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা গত দুই দশকে প্রায় ২-৩ গুণ বেড়েছে।

ধারণা ৩

হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট একই জিনিস।

বাস্তবতা- হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়, যদিও এগুলি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। হার্টের একটি অংশে রক্ত ​​প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো হার্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটি, যার ফলে হার্ট পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। এক  কথায় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বনাম হার্ট অ্যাটাকের পার্থক্য তুলে ধরতে হলে বলা যেতে পারে- একটি হল বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অন্যটি আর্টারি-এর  ব্লকেজ।

ধারণা ৪

ফিট বা রোগা মানুষের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে না।

বাস্তবতা- এটা সত্যি যে, সুস্থ ওজন হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তবে জেনেটিক কারণ, হাই কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা স্ট্রেস-এর মতো নানাবিধ কারণগুলি সুস্থ মানুষের জন্য হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

ধারণা ৫

হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা হয়।

বাস্তবতা- ব্যথা তীব্র হতে পারে, তবে অনেক সময় হালকা অস্বস্তি বা চাপ হিসেবে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়ে। ডায়াবেটিস-এর রোগীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি। [RSM[1] [S[B2] কিছু ক্ষেত্রে, 'সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক'-এ ব্যথা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকতে পারে।

ধারণা ৬

হার্ট অ্যাটাক অনুভব করলে জোর করে কাশতে শুরু করলে প্রাণ রক্ষা হতে পারে।

বাস্তবতা- এটি মারাত্মক এক ধারণা। জোর করে কাশি দিতে থাকলে যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের সময় অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার আয়োজন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ধারণা ৭

বাইপাস সার্জারি বা স্টেন্ট হৃদরোগ সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তোলে।

বাস্তবতা- এগুলি হৃদপিণ্ডে রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে যা জীবন বাঁচাতে পারে, কিন্তু হৃদরোগ নিরাময় করে না। হৃদরোগ একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা, যার জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন অপরিহার্য।

ধারণা ৮

হার্ট অ্যাটাকের এক বড়ো কারণ হলো স্ট্রেস।

বাস্তবতা- স্ট্রেস একটি ঝুঁকির কারণ, তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। উচ্চ রক্তচাপ[RSM[3] [S[B4] , নাক ডাকার সমস্যা (অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপনিয়া থেকে), হাই  কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন- এগুলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ধারণা ৯

আপনার যদি হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তাহলে আপনার হার্ট অ্যাটাক অনিবার্য।

বাস্তবতা- জেনেটিক প্রবণতা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে জীবনযাপনের স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করে (যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, ধূমপান ত্যাগ করা) এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।

ধারণা ১০

হার্ট অ্যাটাকের সময় অ্যাসপিরিন খেলেই সব ঠিক হয়ে যায়।

বাস্তবতা- অ্যাসপিরিন রক্ত ​​জমাট বাঁধতে বাধা দিতে পারে এবং প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে উপকারী, তবে এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়। এটি জরুরি চিকিৎসার বিকল্প নয়। এই ওষুধ  সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

হৃদরোগের পরিসংখ্যান এবং সচেতনতার গুরুত্ব

ভারতে মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশ হৃদরোগজনিত কারণে ঘটে থাকে, যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলি সম্পর্কে সঠিক সচেতনতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আধুনিক এবং উন্নত প্রযুক্তি, নির্ভুল ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রোগীদের জন্য উন্নত ও ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা আজ সহজেই সম্ভব, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সহায়ক।

হৃদয়কে সুস্থ রাখার কয়েকটি সহজ নিয়ম

  • বুকে অস্বস্তি বা হার্ট অ্যাটাকের অন্য কোনও লক্ষণ অনুভব করলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ডেকে নিন।

  • নিয়মিত চেকআপ করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

  • ধূমপান ত্যাগ করুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

  •  রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

  • হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলিকে উপেক্ষা করবেন না বা চিকিৎসা পেতে দেরি করবেন না।

  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজের ওষুধ পরিবর্তন করবেন না।

  • অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাবেন না[RSM[5] [S[B6] ।

  •  শারীরিক ওজন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সারসংক্ষেপ

হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত ভুল ধারণাগুলি দূর করা সুস্থ হৃদযন্ত্র বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য হৃদরোগের লক্ষণগুলিকে অবহেলা না করে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা করালে গুরুতর জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। মণিপাল হসপিটালস-এর মাধ্যমে কলকাতা আপনাকে দিচ্ছে উন্নত কার্ডিয়াক কেয়ার-এর সুযোগ। এখানকার প্রত্যেকটি কার্ডিওলজিস্ট আধুনিক প্রযুক্তি, দ্রুত রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিটি রোগীর হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করেন। আপনি যদি বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা হৃদরোগের ঝুঁকির কোনও লক্ষণ অনুভব করেন, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মণিপাল হসপিটালস সল্ট লেক-এর অভিজ্ঞ কার্ডিওলজি টিম আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে আপনার হৃদযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

FAQ's

হ্যাঁ, সঠিক চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই হার্ট অ্যাটাকের পর একটি স্বাভাবিক, সক্রিয় জীবন ফিরে পেতে পারেন। রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামগুলি এক্ষেত্রে খুব সহায়ক হয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, যেমন সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রেস কমানো এবং উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো অন্তর্নিহিত অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে ভালো উপায়।
 

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হল এমন একটি হার্ট অ্যাটাক যেখানে কোনও স্পষ্ট বা তীব্র লক্ষণ থাকে না। এটি সাধারণ অস্বস্তি, বদহজম বা ক্লান্তি হিসেবে অনুভূত হতে পারে এবং প্রায়শই এটি ধরা পড়ে না। এটি খুবই বিপজ্জনক কারণ এর জন্য চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে।
 

হ্যাঁ, কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা দেখা যায়, কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, ঘাড়, চোয়াল ও পিঠে ব্যথা বা পেটে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং বমি বমি ভাব বেশি দেখা যায়।
 

যদি আপনার হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ (যেমন পারিবারিক ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস) থাকে, তাহলে 30 বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত চেকআপ শুরু করা উচিত। সাধারণত, 40 বছর বয়সের পর থেকে সবারই নিয়মিত কার্ডিয়াক স্ক্রিনিং করানো উচিত।
 

Share this article on:

Subscribe to our blogs

Thank You Image

Thank you for subscribing to our blogs.
You will be notified when we upload a new blog

You’re on Our Indian Website

Visit the Global site for International patient services

Need Assistance?
'Click' to chat with us
Chat with us