পিঠের ব্যথা খুবই সাধারণ সমস্যা! প্রায় ৮০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনও না কোনও রকম পিঠের ব্যথায় ভোগেন। তবে এই ব্যথা বাম পিঠের নীচের অংশে অনুভব হলে, তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হতে পারে। এই ব্যথার প্রকৃতি হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র ব্যথা বা ছুরির আঘাতের মতো যন্ত্রণা পর্যন্ত হতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করতে পারে। বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা কেন হয় এবং কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত, এই ব্লগ আপনাকে সেই কথাই বলবে।
Synopsis
বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথার কারণ
বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা মাংসপেশি, হাড়, স্নায়ু বা অভ্যন্তরীণ কোনও অঙ্গের সমস্যার কারণে হতে পারে, যেমন:
১. মাংসপেশি এবং হাড় সম্পর্কিত কারণ
-
মাংসপেশির টান/লিগামেন্ট-এর মচকে যাওয়া- অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ভুল ভঙ্গিমার কারণে পিঠের বাম দিকের মাংসপেশি বা লিগামেন্ট-এ টান পড়লে বাম পিঠের নীচের অংশে তীব্র ব্যথা হতে পারে। ৯০% ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসায় সমাধান সম্ভব।
-
সায়াটিকা- সায়াটিক নার্ভ-এ চাপ পড়লে কোমর থেকে পা পর্যন্ত তীব্র ব্যথা ছড়ায়। প্রায়শইে বাম পিঠের নিচের দিকে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা শুরু হয়ে বাম পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
-
ডিস্কের সমস্যা- মেরুদণ্ডের ডিস্ক স্থানচ্যুত হলে বা ফেটে গেলে স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি হয়ে বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা হয়।
-
আর্থ্রাইটিস- মেরুদণ্ডে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা স্পন্ডাইলোসিস থেকেও বাম পিঠের দিকে ব্যথা হতে পারে।
২. কিডনি সম্পর্কিত কারণ
-
কিডনিতে পাথর- কিডনিতে পাথর হলে বাম পিঠের নীচের দিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে, যা পেট ও কুঁচকির দিকে ছড়ায়।
-
কিডনিতে সংক্রমণ- জ্বরের সঙ্গে বাম পিঠের নিচের দিকে ব্যথা কিডনি সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
৩. অন্যান্য কারণ
-
পেটের সমস্যা- কোষ্ঠকাঠিন্য, আইবিএস বা ডাইভার্টিকুলাইটিস বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথার কারণ হতে পারে।
-
মহিলাদের নির্দিষ্ট সমস্যা- এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড বা ডিম্বাশয়ের সিস্টও বাম পিঠের নিচের অংশে ব্যথা তৈরি করতে পারে।
-
প্যানক্রিয়াটাইটিস- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ কিছু ক্ষেত্রে পিঠের নিচের দিকে ব্যথা সৃষ্টি করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও প্রাথমিক যত্নের সাহায্যে বাম পিঠের নীচের অংশের ব্যথা ভালো হয়। প্রায় ৭০% রোগীর ব্যথা ৩ মাসের মধ্যে উপশম হয়। তবে, নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
-
যদি হঠাৎ করেই বাম পিঠের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় ও বাড়তে থাকে
-
যদি ব্যথা ২-৩ দিনের বেশি থাকে এবং বিশ্রাম নিলেও না কমে
-
যদি ব্যথা বাম পা বা নিতম্বের দিকে ছড়ায় এবং অসাড়তা, ঝিনঝিন ভাব কিংবা দুর্বলতা অনুভব হয় (এটি সায়াটিকার ইঙ্গিত হতে পারে
-
যদি ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি বা অসুস্থতা থাকে
-
যদি মূত্রত্যাগ বা মলত্যাগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়
-
যদি কোনও আঘাত বা দুর্ঘটনার পর ব্যথা শুরু হয়
-
যদি কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস হয়

সাবধানতার কিছু সাধারণ নিয়ম
বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রেখে চলতে হবে। কিছু কাজ যেমন করা যায় বা, তেমনই কিছু নিয়ম অবলম্বন করলে সুফল পাবেন:
|
করণীয় |
র্জনীয় |
|
|
ওজন বহন- ভুল ভঙ্গিমায় ভারী জিনিস তুলবেন না |
|
|
|
|
|
|
|
|
নিজস্ব ওষুধ- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাবেন না |
|
|
|
সারসংক্ষেপ
বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা অনেক সময় সাধারণ পেশির টান থেকে শুরু করে কিডনি বা মেরুদণ্ডের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই উপসর্গকে অবহেলা না করে এর কারণ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব। আপনিও যদি পিঠে ব্যাথার উপরোক্ত লক্ষণগুলি অনুভব করেন, তবে আজই মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর-এর অভিজ্ঞ স্পাইন সার্জন-দের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনাকে সঠিক রোগ নির্ণয় ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা দিতে মণিপাল হসপিটালস সদা তৎপর।
FAQ's
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেশীতে টান বা মচকানোর কারণে বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা হয়, যা বিশ্রাম নিলে ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে কখনও এটি কিডনি পাথর, সায়াটিকা বা ডিস্কজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের ওজন বাড়ার কারণে বাম পিঠের নীচের অংশে ব্যথা হওয়া বেশ সাধারণ। তবে যদি ব্যথা খুব তীব্র হয় বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হ্যাঁ, বাম পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা যা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় এবং সঙ্গে অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব থাকে, তা সায়াটিকার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হ্যাঁ, বাম পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা যদি পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে অসাড়তা বা ঝিনঝিন অনুভূতি থাকে, তাহলে এটি সায়াটিকার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হ্যাঁ, যদি বাম পিঠের নিচের ব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি বা প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব কিংবা রক্ত দেখা যায়, তাহলে এটি কিডনির সমস্যার সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।