English
Department of Ear Nose Throat
Book Appointment

Subscribe to our blogs

Department of Ear Nose Throat

নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণ কী এবং কীভাবে নিরাপদে তা পরিচালনা করবেন

Posted On: Feb 27, 2026
blogs read 7 Min Read
নাক দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার উপায়

হঠাৎ করে, অথবা বিনা কারণে নাক থেকে রক্তপাত (Epistaxis) মনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঘাবড়ে গেলেও মনে রাখা ভালো যে এটি একটি সাধারণ ঘটনা যা সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে  এটি কোনো বড় শারীরিক সমস্যার লক্ষণ না হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে— "এটি কি স্বাভাবিক? কেন এমন হলো? আমি কি সঠিকভাবে এটি সামলানোর চেষ্টা করছি?"

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া সেরম ভয় পাওয়ার মতো বিষয় নয়, এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে এটিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আমাদের আজকের এই ব্লগে নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণ, তা বন্ধ করার উপায়, ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি, ও কি লক্ষণ দেখা গেলে আপনার শীঘ্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

 

নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা এপিস্ট্যাক্সিস (Epistaxis) কী?

নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'এপিস্ট্যাক্সিস' (Epistaxis) বলা হয়। এটি তখনই ঘটে যখন আমাদের নাকের ভিতরের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল রক্তনালীগুলি  (small blood vessels) কোনো কারণে ফেটে যায় এবং সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এই বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটতে পারে, অথবা আঘাত পাওয়া, শুষ্ক আবহাওয়া, সংক্রমণ, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের প্রভাব কিংবা শরীরের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে।

নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়:

  • অ্যান্টেরিয়র:এই ধরণের রক্তপাতই সাধারণত দেখা গিয়ে থাকে, যা নাকের সামনের অংশের রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে হয়।

  • পোস্টেরিয়র: এই ধরণের রক্তপাত সাধারণত নাকের গভীরে অর্থাৎ গলার কাছে যে সব রক্তনালীগুলি  থাকে সেখান থেকে শুরু হয়। পোস্টেরিয়র নোজব্লিড তুলনামূলক ভাবে কম দেখা গেলেও, এটিকে বন্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণে আনা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার বিষয়টি খুব সামান্য হয় এবং তা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি আপনি দেখেন যে রক্তপাত বারবার হচ্ছে, খুব বেশি পরিমাণে হচ্ছে কিংবা দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছে—তবে তা শরীরের অন্তর্নিহিত কোনও সমস্যার সংকেত হতে পারে। রক্তক্ষরণের সঠিক কারণগুলি  বোঝা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সঠিক কৌশলগুলি  জানা থাকলে তা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতে নাকের কোনো সমস্যা বা জটিলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।

নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণ কী?

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মূলে সাধারণত পরিবেশগত পরিস্থিতি, স্থানীয় কোনো চোট কিংবা কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্রধানত কারণগুলির মধ্যে থাকতে পারে:

স্থানীয় এবং পরিবেশগত কারণ

  • শুষ্ক আবহাওয়া: নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শুষ্ক আবহাওয়া। অনেক সময়ে শীতকালে, বা কম আর্দ্রতাযুক্ত স্থানে দীর্ঘক্ষণ থাকলে, নাকের ভিতরের আর্দ্রতা কমে যায়। এর ফলে নাকের সংবেদনশীল আবরণ বা লাইনিং শুকিয়ে যায়  এবং সেখানে ফাটল বা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

  • মেকানিক্যাল ট্রমা বা মুখে আঘাত: অসাবধানতাবশত নাকে আঙুল দেওয়া, খুব জোরে নাক ঝাড়া কিংবা প্রবলভাবে নাক ঘষলে নাকের ভিতরের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল রক্তনালীগুলি  ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এবং সাইনাস ইনফেকশন: অ্যালার্জি বা সংক্রমণের কারণে যখন নাকের ভিতরের ঝিল্লি বা মেমব্রেন-এ  প্রদাহ (Inflammation) তৈরি হয়, তখন সেখানকার রক্তনালীগুলি  অত্যন্ত নাজুক বা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এর ফলে নাকের অভ্যন্তরীণ টিস্যুগুলি তাদের স্বাভাবিক সহনশীলতা হারিয়ে ফেলে, এবং সামান্য চাপ বা অস্বস্তিতেই রক্তনালীগুলি  সহজে ফেটে যায়, যা  রক্তপাত হওয়ার প্রবণতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

  • নাকের ভিতর কোনো বস্তুর আটকে থাকা: এই সমস্যাটি সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। শিশুরা অনেক সময় খেলার ছলে ছোট কোনো বস্তু (যেমন—পুঁতি, বোতাম, শস্যদানা বা খেলনার ছোট অংশ) নাকে ঢুকিয়ে ফেলে, যা অনেক সময়  ভিতরে থেকে যায়। এই বস্তুগুলি  নাকের ভিতরের অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল ঝিল্লিতে অনবরত ঘষা দিতে পারে বা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে সেখানে ক্ষত তৈরি হয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে।

সিস্টেমিক কারণ এবং ওষুধের প্রভাব

  • উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension): উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রাথমিক কারণ না হলেও, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের (Hypertension) কারণে রক্তপাত শুরু হলে তা থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

  • মদ্যপান এবং ধূমপান: অ্যালকোহল এবং তামাকের প্রভাবে নাকের ভেতরের অত্যন্ত কোমল ও সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলি  তাদের স্বাভাবিক নমনীয়তা হারিয়ে ফেলে, যার ফলে সামান্য কারণেই সেগুলি  ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

  • ব্লাড ক্লটিং ডিসঅর্ডার : এই শারীরিক ব্যাধিগুলি  শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে, যার ফলে সামান্য কোনো কারণে রক্তপাত শুরু হলেও তা সহজে থামতে চায় না। 

  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ : অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট-এর মতো ওষুধগুলি  রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করলেও, এগুলি  অনেক সময় শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক গতিকে কমিয়ে  দেয়।

অন্যান্য কারণ:

গঠন যুক্ত অস্বাভাবিকতা (Structural abnormalities): নাকের মাঝখানের হাড় বাঁকা হওয়া (Deviated Septum), নাকের পলিপ (Nasal Polyp) বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নাকের ভিতরের ঝিল্লিতে অনবরত অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরনের গাঠনিক সমস্যার কারণে নাকের ভিতরের পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং রক্তনালীগুলিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্তর্নিহিত কারণগুলি  চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন শুধু মাত্র সঠিক চিকিৎসার পথই দেখায় না, বরং রক্তক্ষরণকে গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছাতেও বাধা দেয়। আপনার বা আপনার প্রিয়জনের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং বড় কোনো ঝুঁকি এড়াতে লক্ষণগুলি  মোটেই অবহেলা করবেন না ।

নাক দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার উপায়:

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনা মূলত রক্তক্ষরণের তীব্রতা, এর কারণ এবং কতবার এই সমস্যাটি হচ্ছে—তার ওপর নির্ভর করে। রক্তপাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ অবলম্বন করা হয় যা হলো: 

  • নাকের ভিতরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং কোমল ঝিল্লিকে সুরক্ষিত রাখতে নেজাল ময়েশ্চারাইজার বা স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করা।

  • জোরে নাক ঝাড়া বা পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা যাতে নাকের ভিতর আঘাত না লাগে।

  • সামান্য রক্তপাতের ক্ষেত্রে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (First-aid) পদ্ধতি অনুসরণ করে নাকের ওপর সরাসরি এবং দৃঢ় চাপ প্রয়োগ করে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • যদি আপনি রক্ত পাতলা করার কোনো ওষুধ খান আর প্রায়ই আপনার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে  তবে দেরি না করে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সাথে এই বিষয়ে  কথা বলা উচিত।

  • যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার নির্দিষ্ট রক্তনালীটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়, তখন প্রয়োজনে কটারাইজেশন' (Cauterisation) পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই রক্তনালীটি সিল বা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

  • অবিরাম বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় 'নেজাল প্যাকিং' (Nasal Packing) পদ্ধতি ব্যবহার করার হয়। 

  • যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে দাঁড়ায় বা বারবার ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করতে, তখন চিকিৎসকরা 'এম্বোলাইজেশন' (Embolisation)-এর মতো উন্নত কাটা-ছেঁড়া বিহীন  পদ্ধতির কথা বিবেচনা করতে পারেন।

নাক দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার ঘরোয়া চিকিৎসা:

মাঝেমধ্যেই  নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সহজ কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি হল:

  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে প্রথমেই বিচলিত হওয়ার কারণ নেই; শান্ত হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসা এবং শরীরটাকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখা জরুরি।  

  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে নাকের নিচের নরম অংশটি আঙুলের সাহায্যে শক্ত করে চেপে রাখা জরুরি। অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট একটানা চাপ দিয়ে ধরে রাখা এবং এই সময়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।  

  • নাক বা গালের পাশে একটি ঠান্ডা সেঁক বা কোল্ড কমপ্রেস প্রয়োগ করা বেশ আরামদায়ক হতে পারে। 

  • নাকের ভিতরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে নিয়মিত স্যালাইন স্প্রে (Saline Spray) ব্যবহার করা বা  ঘরে একটি হিউমিডিফায়ার (Humidifier) রাখা প্রয়োজনীয়।

  • একবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, নাকের ভিতরের অংশটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। তাই পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুব সতর্ক থাকা জরুরি। এই সময়ে কখনওই  নাক ঝাড়া, ঘষাঘষি করা বা নাকের ভিতরে আঙুল দেওয়া উচিত নয়।

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া  স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

  • নাকের ভিতরের শুষ্কতা কমাতে নাকে ওয়াটার-বেসড নেজাল জেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি  সামান্য রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও , শরীর যদি অন্য কোনো বড় বিপদের সংকেত দেয়, তবে তাকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। যদি রক্তপাত খুব বেশি হয়, বারবার ফিরে আসে, কিংবা টানা ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে—তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়াও, রক্তক্ষরণের পাশাপাশি যদি মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব হয়, তবে সেটিকে অবশ্যই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপ:

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাটি সাধারণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি মারাত্মক কিছু নয়। তবে, এই নাক দিয়ে রক্তপাতের কারণগুলি বোঝা এবং কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন তা শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দিয়ে রক্ত পড়া অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

যদি এই সমস্যাটি বারবার ফিরে আসে বা গুরুতর আকার ধারণ করে, তবে সঠিক মূল্যায়নের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়ির অভিজ্ঞ ইএনটি (ENT) স্পেশালিস্ট-রা উন্নত ডায়াগনস্টিক পরিষেবা এবং প্রতিটি রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ চিকিৎসা প্রদান করেন, যার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আপনার জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি।

FAQ's

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে এবং এটি খুব সাধারণ একটি বিষয়। এই সমস্যাটি বেশি লক্ষ্য করা হয়:

  • ২ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু

  • ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী বয়স্ক ব্যক্তি

  • গর্ভবতী মহিলা

  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী

  • রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা যাঁদের রয়েছে

ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার বিষয়টি অনেক সময় বেশ উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণত যে বিষয়গুলি  ঘন ঘন রক্তপাতের কারণ হতে পারে সেগুলি হল :

  • শুষ্ক আবহাওয়া

  • অ্যালার্জি বা সংক্রমণজনিত অস্বস্তি

  • বারবার নাক খোঁটা বা আঘাত

  • রক্ত পাতলা হওয়ার ওষুধের নিয়মিত ব্যবহার

  • অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রধান লক্ষণ হলো এক বা উভয় নাকের ছিদ্র দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই গলায় অস্বস্তি, মুখে ধাতব স্বাদ, নাকের ভিতরে অস্বস্তি বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতিও দেখা যায়। যদি রক্তক্ষরণ অনেকটা বেশি হয়, তবে এর পাশাপাশি মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভূতিও হতে পারে।

যদি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা বারবার ফিরে আসে বা চাপ দেওয়ার পরেও ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে রক্তপাত চলতে থাকে, কিংবা তার সাথে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। দ্রুত মূল্যায়ন অনেক সময় জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

নাক ও শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখলে  নাকের মিউকাস মেমব্রেন সহজে শুকিয়ে যায় না এবং রক্তপাত প্রতিরোধ করাও সহজ হয়। নাক খোঁচানো বা জোরে  নাক ঝাড়া  এড়িয়ে চলা এবং শুষ্ক পরিবেশে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা - এই সমস্তই নাক দিয়ে রক্তপাতের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। অ্যালার্জি জনিত সমস্যা  দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করলে রক্তপাতের সমস্যা কমানো যায়।

Share this article on:

Subscribe to our blogs

Thank You Image

Thank you for subscribing to our blogs.
You will be notified when we upload a new blog

You’re on Our Indian Website

Visit the Global site for International patient services

Need Assistance?
'Click' to chat with us
Chat with us