English
Dr. Nilotpal Dutta | Best Neurootologist in India | Manipal Hospitals, Salt Lake

Dr. Nilotpal Dutta

Consultant - Neuro-Otologist (Vertigo and Balance Clinic)

Book Appointment

Subscribe to our blogs

Dr. Nilotpal Dutta | Best Neurootologist in India | Manipal Hospitals, Salt Lake
Reviewed by

Dr. Nilotpal Dutta

Consultant - Neuro-Otologist (Vertigo and Balance Clinic)

Manipal Hospitals, Salt Lake

মাথা ঘোরা এবং মাথা ঘোরা: কারণ, ঘরোয়া প্রতিকার এবং কখন চিন্তা করবেন

Posted On: Mar 27, 2026
blogs read 6 Min Read
মাথা ঘোরা ও ভার্টিগোর কারণ উপসর্গ ও চিকিৎসা

মাথা ঘোরা একটি সাধারণ সমস্যা, যা দৈনন্দিন জীবনকে বেশ প্রভাবিত করতে পারে। মাথা ঘোরাকে ব্যাখ্যা করতে অনেকেই 'Dizziness' ও 'Vertigo' এই দুটি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তবে আপাত ভাবে এক মনে হলেও এই দুটি শব্দের অর্থ কিন্তু ভিন্ন।  বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৫-২০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কখনও না কখনও ভাবে মাথা ঘোরার সমস্যায় ভোগেন। অথচ, সঠিক তথ্য এবং সময় মতো  চিকিৎসা- ৫০% এরও বেশি ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সাহায্য করতে পারে। প্রস্তুত ব্লগে থাকছে সাধারণ মাথা ঘোরা ও ভার্টিগোর কারণ, উপসর্গ এবং প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

 

মাথা ঘোরা বলতে কী বোঝায়?

পাতি মাথা ঘোরাকে 'ডিজিনেস' (Dizziness) বলা হয়, যেখানে মাথাটা হালকা-হালকা অনুভব হয় এবং বাড়াবাড়ি ক্ষেত্রে  ভারসাম্যহীনতা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। সাধারণত, এটি কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত না হলেও, অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অন্য দিকে 'ভার্টিগো' (Vertigo) হলো মাথা ঘোরার একটি নির্দিষ্ট প্রকার, যেখানে রোগী অনুভব করেন যেন  তিনি নিজে ঘুরছেন কিংবা তার চারপাশটা ঘুরছে। এটি শুধুই একটি অনুভূতি নয়, বরং এমন এক শারীরিক সমস্যা যার ফলে শারীরিক ভারসাম্যে বিচ্যুতি ঘটে রোজকার জীবনযাপনে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

মাথা ঘোরা ও ভার্টিগোর কারণ উপসর্গ ও চিকিৎসা

মাথা ঘোরা এবং ভার্টিগোর  কারণ  কী?

মাথা ঘোরা এবং ভার্টিগোর একাধিক কারণ হতে পারে। অধিকাংশ সময়ে কানের ভেতরের বা স্নায়বিক (মস্তিষ্কজনিত) কোনও সমস্যা দায়ী হলেও কিছু-কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য সাধারণ কারণও থাকতে পারে। যথাযথ চিকিৎসার জন্য সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয়  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কানের ভেতরের সমস্যা

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভার্টিগোর কারণ কানের ভেতরের অংশে নিহিত, যা আমাদের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ৮০% ভার্টিগো কানের ভেতরের সমস্যার কারণেই হয়ে থাকে, যেমন:

  • বিনাইন প্যারক্সিসমাল পজিশনাল ভার্টিগো (BPPV)- এটি ভার্টিগোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ। কানের ভেতরে ক্যালশিয়ামের ক্ষুদ্র কণাগুলি স্থানচ্যূত হলে মাথার কিছু-কিছু স্থানে তীব্র কিন্তু স্বল্পস্থায়ী ভার্টিগো হতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় প্রায় ৯৫% BPPV রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

  • মেনিয়ার্স ডিজিজ (Meniere's Disease)- কানের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে তরল পদার্থ জমা হতে থাকলে ভার্টিগো, কানে কম শোনা, কানে শব্দ হওয়া এবং কানের মধ্যে চাপ অনুভব হয়।  

  • ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস (Vestibular Neuritis) বা ল্যাবিরিন্থাইটিস (Labyrinthitis)- কানের অভ্যন্তরীন স্নায়ুতে সংক্রমণ হলে হঠাৎ তীব্র ভার্টিগো হয় এবং প্রায়শই এর সঙ্গে বমি-বমি ভাব দেখা দেয়।

স্নায়বিক কারণ

মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রের কিছু সমস্যাও ভার্টিগোর কারণ হতে পারে, যেমন:

  • মাইগ্রেন- কোনও-কোনও মাইগ্রেন রোগীর ক্ষেত্রে মাথাব্যথা না থাকলেও মাথা ঘোরার সমস্যা থাকতে পারে।

  • স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA)- মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে হঠাৎ তীব্র মাথা ঘোরার  সমস্যা দেখা দিতে পারেে, যা  জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস- এই স্নায়ুজনিত অটো-ইমিউন রোগটিও  ভারসাম্যহীনতা এবং মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে।

অন্যান্য কারণ

কান ও স্নায়ু ছাড়া আরও কিছু সাধারণ কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে, যেমন:

  • নিম্ন রক্তচাপ- বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে মাথা ঘুরে উঠতে পারে।

  • ডিহাইড্রেশন- শরীরে জলের ঘাটতি হলে মাথা ঘোরার অনুভূতি হতে পারে।

  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া- কিছু-কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথা ঘুরতে পারে।

  • রক্তস্বল্পতা- শরীরে আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, যার ফলে মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তি অনুভব হতে পারে।

  • উদ্বেগ বা মানসিক চাপ- তীব্র মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণেও মাথা ঘোরার সমস্যা  হতে পারে।

কী কী উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?

মাথা ঘোরার ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার লক্ষণ  এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি  উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলি কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে:

  • মাথায় বা ঘাড়ে তীব্র ব্যথা

  • শরীরের একপাশে দুর্বলতা  বা অসাড়ভাব  

  • কথা বলতে বা ঢোঁক গিলতে অসুবিধা

  • চোখে ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন

  • অজ্ঞান বা অচৈতন্য হয়ে যাওয়া 

  • হঠাৎ শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া

  • বুক ধড়ফড়ানি বা তীব্র বুকে ব্যথা

মাথা ঘোরার চিকিৎসা এবং প্রতিকার কী?

মাথা ঘোরার চিকিৎসা তার কারণের উপর নির্ভর করে।  প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট  বিশেষজ্ঞ দল সঠিক কারণ নির্ণয় করে  উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

ঘরোয়া প্রতিকার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন

কিছু ক্ষেত্রে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ঘরোয়া প্রতিকার মাথা ঘোরার চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে:

  • পর্যাপ্ত জল খাওয়া- ডিহাইড্রেশন এড়াতে সারাদিন পর্যাপ্ত জল খান।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম- শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন এবং স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন।

  • সুষম খাদ্য- লবণ, চিনি এবং ক্যাফেইন কমিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।

  • আচমকা নড়চড় এড়িয়ে চলুন- হঠাৎ করে নিজের অবস্থা বা ভঙ্গি পরিবর্তন না করে, ধীরে ধীরে শরীর চালনা করুন।  

  • উজ্জ্বল আলো ও তীব্র  শব্দ এড়িয়ে চলুন- কিছু-কিছু ক্ষেত্রে এগুলি ভার্টিগোর সমস্যাকে উস্কে দিতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

মাথা ঘোরার গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রজোয্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি হলো:

  • ওষুধ- বমি বমি ভাব, বমি বা ভার্টিগোর তীব্রতা কমাতে চিকিৎসক কিছু ওষুধ দিতে পারেন।

  • ভেস্টিবুলার রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি (VRT)- BPPV এবং কানের ভেতরের অন্যান্য সমস্যার জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি।

  • ফিজিওথেরাপিস্ট- এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হয়।  প্রায় ৯০% BPPV রোগী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি অনুভব করেন।

  • অন্যান্য চিকিৎসা- মাইগ্রেন, নিম্ন রক্তচাপ বা অন্য কোনও অন্তর্নিহিত রোগের কারণে ঘুরলে সেই রোগের চিকিৎসা করা হয়। 

  • সার্জারি- মেনিয়ার্স ডিজিজের মতো কিছু বিরল ক্ষেত্রে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু সাধারণ নিয়ম

কী করবেন

কী করবেন না

ধীরে ধীরে নড়াচড়া করুন

হঠাৎ করে মাথা ঘোরার সময় দাঁড়ানো বা দ্রুত নড়াচড়া করা

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও পর্যাপ্ত জল পান করুন

উচ্চতা থেকে কোনো কাজ করা

ভারসাম্য বজায় রাখতে সাপোর্ট ব্যবহার করুন (যেমন ওয়াকিং স্টিক )

নিজে নিজে চিকিৎসা করা বা দীর্ঘক্ষণ ধরে লক্ষণগুলিকে উপেক্ষা করা

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন

অতিরিক্ত ক্যাফেইন, অ্যালকোহল বা ধূমপান করা

মাথা ঘোরার কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

সমস্যার কথা লুকিয়ে রেখে অযথা বিলম্ব করবেন না

সারসংক্ষেপ

মাথা ঘোরা ও ভার্টিগো সাধারণ সমস্যা হলেও কখনও-কখনও  কোনও  অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।  নির্দিষ্ট উপসর্গ বারবার দেখা দিলে সঠিক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনওি যদি উপরোক্ত  কোনও লক্ষণ অনুভব করেন বা মাথা ঘোরা কিংবা ভার্টিগো নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তা হলে অবিলম্বে  মণিপাল হসপিটালস কলকাতা-এর অভিজ্ঞ ও সুদক্ষ নিউরোলজিস্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মণিপাল হসপিটালস-এ উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতি বছর ৫০০-এরও বেশি ভার্টিগো রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় ও সফল চিকিৎসা করা হয়। আপনার সুস্বাস্থ্যই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

FAQ's

 মাথা ঘোরা একটি সাধারণ অনুভূতি, যেখানে দুর্বলতা বা অস্থিরতা লাগে। ভার্টিগোতে মনে হয় চারপাশ ঘুরছে বা দুলছে। এটি সাধারণত কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা বা স্নায়ুর সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।

ভার্টিগো সাধারণত কানের ভেতরের সমস্যার কারণে হয়, যেমন BPPV, মেনিয়ের’স ডিজিজ বা ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস। এছাড়াও মাইগ্রেন, মাথায় আঘাত, সংক্রমণ বা স্নায়বিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

যদি মাথা ঘোরা বারবার হয়, দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, হঠাৎ তীব্র হয় বা সাথে বমি, দৃষ্টির সমস্যা, কথা বলতে অসুবিধা বা দুর্বলতা দেখা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অনেক ক্ষেত্রে ভার্টিগো সঠিক চিকিৎসা ও থেরাপির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা বা পুরোপুরি ভালো করা যায়। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে মূল কারণের উপর এবং এতে ওষুধ, বিশেষ ব্যায়াম বা জীবনযাত্রার পরিবর্তন থাকতে পারে।

ভার্টিগো কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, হঠাৎ দ্রুত মাথা নাড়ানো এড়ানো এবং স্ট্রেস কমানো সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

Share this article on:

Subscribe to our blogs

Thank You Image

Thank you for subscribing to our blogs.
You will be notified when we upload a new blog

You’re on Our Indian Website

Visit the Global site for International patient services

Need Assistance?
'Click' to chat with us
Chat with us